শ্রমিকদের সংগ্রামে নামার শপথ অভিযান
মানিনা আমরা করোণায মরে যাওয়া ! মানিনা বেকার-নিরন্ন মরে যাওয়া !!
আর শির নুইয়ে গোলামের মত খাটব না !
মাথা উঁচু করে মানুষের মতো বাঁচবই আমরা!
আর কোনোমতেই হার মানব না ! কিছুতেই হার মানব না !
আমাদের খেটে খাওয়া ভাই বোনেরা আর সাথীরা !
করোণা মহামারী সম্পূর্ণ ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার আসল চেহারাকে পুরোপুরি উলঙ্গ করে দিয়েছে। যখন শ্রমিকেরা প্রতি মূহুর্তে করোণা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে সেই ভয়াল সময়ে কোনোও প্রস্তুতি, কোনোও পরিকল্পনা, কোনোও ভাবনা চিন্তা ছাড়াই, নগ্নভাবে শ্রমিক বিরোধী মোদি সরকার সারাদেশে লকডাউন চাপিয়ে দিল আর শত শত তাজা প্রাণ সম্পূর্ণ অকারনেই শেষ হয়ে গেল। প্রবাসী শ্রমিকেরা যখন সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরবে তারা দেখলো তাদের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই, রয়েছে সমস্ত রকম বঞ্চনা, অত্যাচার আর অপমান। চূড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্যে শ্রমিকট্রেনগুলিতে আশী জন শ্রমিক তাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা বেঘোরে প্রাণ হারাল। এখন যখন লকডাউন তুলে নিয়ে আমাদের আবার কল-কারখানায় কাজে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, তার পিছনে আসল কারণ গত কয়েক মাস ধরে স্তব্ধ হয়ে থাকা মালিকদের মুনাফার মেশিনারিকে চালু করা, ফলে সারাদেশে বহু জায়গায়, কারখানায় আর কর্মস্থলে শ্রমিক সাথীরা করোণায়ে আক্রান্ত হচ্ছেন, শ্রামিক বস্তিগুলিতে করোণা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, লোকে মারা যাচ্ছে আর ব্যাপক স্তরে সেসব পরিসংখ্যান চেপে দেওয়া হচ্ছে। পুঁজিপতি আর তার দালালেরা আজ আমাদের সামনে শুধু দুটো পথ খোলা রেখেছে, দুটোই মরণের পথ, হয় করোণাযে মর, নয় অভাবে অনাহারে মর। বেঁচে থাকার কোনও পথই আজ আমাদের জন্য খোলা নেই কিন্তু বেঁচে থাকার অধিকার আমরা কারো হাতেই তুলে দিইনি। বিদেশে পড়তে যাওয়া বড়লোকদের ছেলেমেয়েদের জন্য, বেনিয়াদের জন্য, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভক্তকুলের জন্য মোদি সরকার সদাই তৎপর তাদের জন্য বিশেষ বিমান তৈরি, তাদের জন্য আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস। শ্রমিকরা রাস্তায় দুর্ঘটনায় অনাহারে মারা যাক তাদের জন্য সরকারের কোনও সময় নেই, নেই কোনো সহানুভূতি!
আমরা যেন এটা মনে রাখি যে এই সম্প্দবান, বিলাসী, স্বার্থ সর্বস্ব শ্রেণীর বাড়ি ঘরদোর আমরা শ্রমিকেরাই গড়েছি। আমরাই, এদের গাড়ি, প্লেন সব কিছুই তৈরি করেছি। মানুষের গড়া দুনিয়ার আমরাই কারিগর। গড়ে তুলি আমরা আর দুনিয়াটা হয়ে যায় পুঁজিপতিদের। আর শেষ পর্যন্ত আমাদের স্থান রাস্তায়, আমাদের জন্য কণা মাত্র কিছুই নেই। দিনে 12-12 ঘন্টা হাড়ভাঙা খেটে এদের সিন্দুক, এদের ব্যঙ্কের ভল্ট ভরিয়ে তোলা, এদের মুনাফা অবিরাম বাড়িযে যাওয়া এই আমাদের কাজ। দেশের সব শস্যগুদামগুলির সর্বমোট শস্য মজুত করার ক্ষমতার তিন গুণ অর্থাৎ সাড়ে সাত কোটি টন শস্য পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটি রিপোর্ট অনুসারে শুধুমাত্র গত চার মাসে এই সরকারি গুদামগুলিতে 65 লক্ষ টন শস্য পচে নষ্ট হয়ে গেছে যা দিয়ে আঠারো কোটি লোককে লকডাউনের সময় পেট ভরে খাওয়ানো যেত। এ ফসল টাটা, বিড়লা, আম্বানি, আদানী আর ধনী ভূস্বামীরা ফলায়নি। এইসব আমাদের কর্মঠ,
শিরা-বেরকরা হাতের ফসল। তা সত্বেও এই নির্মম দিনগুলিতে আমাদের না খেয়ে মরতে হচ্ছে। ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে করতে শত শত মাইল পায়ে হাঁটতে-হাঁটতে আমাদের সন্তানেরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। কিন্তু কেন? সূঁচ থেকে জাহাজ পর্যন্ত সবকিছু আমরাই গড়ি কিন্তু আমাদের তৈরি করা কোন কিছুতেই আমাদের কোনও অধিকার নেই !
আর এই রক্তচোষা জোঁকের দল এই মালিক ঠিকাদার, দালালদের পরজীবীশ্রেণী, এরা কিছুমাত্র না করে আয়েষে বিলাসে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সব কিছুই নিজেদের জীবন দিয়ে বুঝতাম আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু করোণার এই বিশ্বব্যাপী সংকটকাল এই নির্মম অন্যায় সত্যকে সবার সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
সাথিরা, তোমরা কি এরপরেও পুঁজির মজুরির এই দাসত্বকে মেনে নেবে? তোমরা কি নিজের চোখের সামনে নিজেদের সন্তানেদের মৃত্যুকে অসহায় ভাবে দেখে যাওয়াকে নিজেদের নিয়তি বলে মেনে নিয়েছ? তোমরা কি বোবা পশূর মত বেঁচে থাকতে প্রস্তুত ? যদি তাই হয় তাহলে আমাদের তোমাদের জন্য কিছুই বলার নেই। কিন্তু যদি তোমাদের হৃদয়ের এক কোনায়ও এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের স্পন্দন জেগে ওঠে, তাহলে সব নিরাশা ছেড়ে ফেলে আমাদের আবার সবকিছু নতুন ভাবে শুরু করতে হবে, গড়ে তুলতে হবে নিজেদের অধিকারের লড়াইয়ের এক নতুন অভিযান। সর্বপ্রথম আমাদের নিজেদের জেগে উঠতে হবে তারপর জাগিয়ে তুলতে হবে আমাদের সব ভাই-বোনেদের, আমাদের সব সাথীদের। এই ভাবে শুরু হবে সারা দেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষেদের সম্মিলিত অভিযান।
মালিক পুঁজিপতিদের মুনাফার খিদে কখনওই মেটে না, বর্তমান অর্থনৈতিক বিপর্যয় করোনার বহু আগে থেকেই চলছিল। করোণা এই বিপর্যয়কে আরও সার্বিক, আরও গভীর করে তুলছে। কিন্তু অন্যান্য সময়ের মতই ছাঁটাই করে, লকআউট করে, মজুরি মেরে দিয়ে করোণার ভয়াবহতার মধ্যে জোরজুলুম করে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে, এই বিপর্যয়ের সব মূল্য আমাদের শ্রমিকদের থেকেই উসুল করা হচ্ছে। আমরা বাড়ি ফিরতে চাই, সরকার তার দায়িত্ব নিতে শুধু খোলাখুলিভাবে বিমুখই নয, সমস্ত রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে সদাই তৎপর, কারণ তাহলে মালিক, ঠিকাদারেরা মজুর কোথায় পাবে? গড় মজুরির হারও যে বেড়ে যাবে। অগত্যা, লক্ষ লক্ষ ভাই বোনেরা, তাদের সন্তানেরা হেঁটেই বাড়ি ফেরার জন্য রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে। তাদেরই অনেকে অসীম পথশ্রমে, অভুক্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে, নয়তো গাড়িচাপা পড়ে এই দুনিয়ার থেকে মুক্তি পেয়েছে। যারা ট্রেনে গেছে তাদের মধ্যে কিছু লোক ট্রেনেই গরমে, অর্ধাহারে, অনাহারে মারা গেছে, অসুস্থ হয়ে পড়েছে, কারণ মোদি সরকার সচেতনভাবে এদের জন্য খাবার আর জলের চূড়ান্ত অব্যবস্থার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ট্রেনগুলিকে ক’দিন ধরে ভুল রাস্তায় ঘুরিয়ে গেছে। এইরকম সংবেদনাহীন অমানবিক আর শ্রমিক বিরোধী সরকার আমরা আগে কখনো দেখেছি কি? এইভাবে ভারতের প্রভুরা, মালিকেরা, ঠিকাদারেরা, দালালেরা আর তাদের প্রতিনিধি মোদি সরকার সবাই সংঘবদ্ধভাবে নিজেদের মুনাফার বুভুক্ষার মূল্য করোণা উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে সম্পূর্ণ অপারগ হওয়ার কারণে গভীরতর হতে থাকা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মূল্য আমাদের কাছ থেকেই কড়ায় গণ্ডায় আদায় করছে,আর আমরা নিজেদের রক্ত আর প্রাণের বিনিময়ে এই মূল্য দিচ্ছি। মোদি সরকার, বিজেপি আর কংগ্রেস রাজ্য সরকারগুলি অর্ডিন্যান্স এনে আমাদের সমস্ত বৈধানিক শ্রমিক অধিকারগুলিকে আমাদের থেকে কেড়ে নিচ্ছে। এই হল মোদি সরকারের ”রামরাজ্য” ! আপনি যদি শ্রমিক হন তাহলে জাত ধর্ম নির্বিশেষে, তা আপনি হিন্দুই হন কিংবা মুসলমান বা অন্য কোনও ধর্মের, টুঁ মাত্র শব্দ না করে মুখ বুজে যদি আজ আপনাকে 12-14 ঘণ্টা অমানুষিক হাড়ভাঙ্গা খাটনি খাটতে হয়, যাতে আপনার মালিক আর ঠিকাদারদের পকেট সদাই গরম থাকে, বুঝেনেবেন “রামরাজ্য” এসে গেছে।
কিন্তু আমাদের সইবার দিন আজ ফুরিয়ে গেছে। আর সবুর করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব, আমাদের সহ্যের পেয়ালা উপচে পড়েছে। মানুষ হয়ে জন্মেছি, মানুষের জীবনের অধিকার আছে আমাদেরও। আমরা ক্ষুধা, বেকারী, আশ্রয়হীনতা, শিক্ষার সুযোগের অভাব, শোষণ-নিপীড়ন, সমস্ত অন্যায়, সব বঞ্চনা থেকে মুক্তি চাই। প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আর অন্যায়ভাবে কেড়েনেওয়া শ্রমিকের অধিকারগুলি আমরা ফিরে পেতে চাই।দেশকে ধনধান্যে আমরাই ভরেতুলি, টাটা, বিড়লা, আম্বানিদের মত পুঁজিপতিরা নয়। নতুবা, এরা আমাদের বাড়ী ফেরার পথে সমস্ত রকম বাধা না সৃষ্টি করে নিজেদের কলকারখানায়, নিজেদের বয়লার ফার্নেসে, খনিতে, খাদানেতে, ক্ষেতে, খামারে নিজেরাই ধন সম্পদ ফলিয়ে নিত। আজ সময় এসেছে সাথিরা আমাদের শক্ত পায়ে দাঁড়াবার। নীচে দেওয়া দাবীগুলি যদি না মেনে নেওয়া হয়, তাহলে সাথীরা, আমরা পথে নামব, সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তুলব, আর আমাদের সমস্ত ন্যায্য অধিকার করায়ত্ব করে নেব।
আমাদের দাবী –
১) কোভিড়-19 এর জন্য গভীরতর হওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে ঢাল করে শ্রমিকদের গোলামের মত 12-12 ঘন্টা খাটিয়ে নেওয়ার জন্য, ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য, ইউনিয়ন গড়ার অধিকার শেষ করে দেওয়ার জন্য, শ্রম আইনেতে করা অন্যায় সংশোধন গুলিকে অবিলম্বে ফেরত নাও।
২) সব শ্রমিক ও মেহনতী মানুষদের জন্য এপিএল-বিপিএল কার্ড ছাড়াই রেশনের দোকানগুলি থেকে প্রয়োজনীয় সব রকমের রেশন সরবরাহের ব্যবস্থা কর।
৩) করোণা সংক্রমনের বিপদ না কেটে যাওয়া পর্য্যন্ত জোর জুলুম করে শ্রমিকদের কাজ করতে কোনওমতে বাধ্য করা চলবে না। লকডাউন তুলে নেওয়ার ছলে শ্রমিক, মজদুরদের কোভিড সংক্রমণের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া বন্ধ করো। তাদের জন্য রোজগার সহ ছুটির ব্যবস্থা করো আর তাদের নিরবিচ্ছিন্ন রোজগারের পথকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করো। করোণার সময় শ্রমিকদের ছাঁটাই করা বন্ধ করো।
৪) তথাকথিত স্বনির্ভর “স্বরোজগারপ্রাপ্ত” লোকেদের যথা ঠেলাওয়ালা, রিক্সাওয়ালা, ফেরিওয়ালা প্রভূতি অপ্রথাগত শ্রেণীর শ্রমিকদের প্রতিমাসে 15000 টাকা নগদ ভাতার ব্যবস্থা করো। তাদের যথা সময়ে সম্পূর্ণ নিখরচায় করোণা পরীক্ষা করার, চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করো। তাদের জীবনে নিরাপত্তা দাও।
৫) যে প্রবাসী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরছেন তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তাসহ কোনও রকম মাসুল ছাড়াই যাওয়ার ব্যবস্থা করো। অদ্যাবধি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য রেল পরিবহন ও অন্যান্য যানবাহনের ব্যবস্থায় যে অপরাধমূলক উদাসীনতা দেখানো হয়েছে তার জন্য দায়ী রেলমন্ত্রী ও অন্যান্য অফিসারদের কঠোরতম আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হোক।
৬) স্বাস্থ্যপরিষেবা সহ সমস্ত বুনিয়াদি পরিষেবা ও পণ্য উৎপাদনের সাথে যুক্ত (যথা পরিবহন ব্যবস্থায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি) শ্রমিক ও কর্মীদের ,সাধারণ পুলিশকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসের সুষ্ঠু সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের যথা সময়ে করোণার সম্পূর্ণ নিখরচায় পরীক্ষা আর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।
৭) অবিলম্বে সারাদেশে সমস্ত রকম নিত্য প্রয়োজনীয় বুনিয়াদী পণ্য আর পরিষেবার সার্বজনীন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হোক।
৮) সরকারের স্তরে পরিকল্পনাহীনতার পরিণামে লকডাউনের সময় পথে ও শ্রমিক এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে মৃত্যু কবলিত সকল শ্রমিক পরিবারের 1-1 জনকে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হোক আর ন্যায্য ও সমুচিত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।
৯) করোণা বিপর্যয়ের কালে উৎপন্ন সমস্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ, যন্ত্রপাতি, সুরক্ষার উপকরণ আরো ব্যাপক উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা উৎপাদনের জন্য দরকারী টাকা দেশের পুঁজিপতি আর ধনাঢ্য শ্রেণীর উপর বিশেষ কর আর সেস চাপিয়ে আদায় করা হোক।
১০) উচ্চমানের সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। ব্যাপক স্তরে সরকারি হাসপাতাল, হেল্থ সেন্টার আর বিশেষ মহামারী নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তৈরি করা হোক। ভারতে কাজ পাওয়ার লোকের অভাব নেই কত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য প্রশিক্ষিত কর্মীরা এ সময় কাজ পাবেন, আর হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের অভাবও দূর হবে।দেশের প্রতিটি নাগরিককে সার্বভৌমিক চিকিৎসা আর স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার অধিকার দেওয়া হোক।
১১) সব প্রাইভেট হাসপাতাল, নার্সিং হোম, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি রাষ্ট্রায়ত্ব করা হোক। করোণার নিঃশুল্ক পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করার প্রতিটি ঘটনার জন্য দায়ী এইসব হাসপাতাল, নার্সিংহোম আর ল্যাবরেটরিগুলির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমুলক পদক্ষেপ নেওয়া হোক।করোণার জন্য অন্য রোগগুলির চিকিৎসা যাতে আর না ব্যাহত হয় তার জন্য বন্ধ ওপিডিগুলি অবিলম্বে খুলে দেওয়া হোক।
১২) যারা সচ্ছল সেই সব বাড়িওয়ালারা এই করোণা বিপর্যয়ের কালে ভাড়া নেওয়া বন্ধ করুক। তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা হোক। আর যেসব ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালারা নিজেরাই আর্থিকভাবে বিপন্ন সেসব ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
১৩) দেশের আঠেরো কোটি গৃহহারা আর আরো আঠেরো কোটি বস্তিবাসীরা করোণা মহামারীর সময় চূড়ান্ত বিপন্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাদের স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করা হোক আর এজন্য সমস্ত সরকারি আবাসন ও ব্যক্তিমালিকানাধীন খালি বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্টগুলি সরকার অবিলম্বে অধিগ্রহণ করুক। আর সাথে সাথে সরকারী স্তরে সার্বজনীন আবাসন প্রকল্প নিয়ে সবার জন্য বাড়ি ঘর তৈরি করা শুরু করা হোক।
১৪) সি.এ.এ. ও এন.আর.সির মত আমূল জনবিরোধী আইনগুলি অবিলম্বে তুলে নেওয়া হোক আর এর জন্য বরাদ্দ সম্পূর্ণ ফান্ডকে করোণা বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে নিয়োজিত করা হোক।
১৫) পি এম কেয়ার ফান্ডের সার্বজনীন অডিটের ব্যবস্থা করা হোক আর তাতে জমা হাজার হাজার কোটি টাকা, জন-কমিটি গঠন করে তাদের তত্ত্বাবধানে করোণা বিপর্যয় মোকাবিলায় খরচ করা হোক।
১৬) করোণার এই চূড়ান্ত বিপর্যয়ের সময়েও প্রবাসী এবং অন্যান্য শ্রমিকদের উপরে পুলিশের বর্বর অত্যাচার আর নিপীড়ন বন্ধ করা হোক। আর অবিলম্বে দোষী পুলিশদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।
১৭) করোণা বিপর্যয়ের সময় যে সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মী, যেসব বুদ্ধিজীবী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আর খোলাখুলি তাদের পক্ষ নিয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন তাদের এবং সকল রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।
১৮) নিত্যনৈমিত্তিক ও স্থায়ী শ্রেণীর কাজগুলির জন্য ঠিকা ব্যবস্থা ও অস্থায়ী ও ক্যাজুয়াল হিসাবে কাজ করানো অবিলম্বে বন্ধ করা হোক আর “সীমিত সময়ের জন্য নিয়োগ” ব্যবস্থা রদ করা হোক।
১৯) করোণা বিপর্যয়ের অজুহাতে শ্রম বিভাগে যেসব মামলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তাদের অবিলম্বে নিষ্পত্তি করা হোক।
২০) প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা তোলার নিয়মকে সহজ করা হোক এবং এতে অন্তর্নিহিত সমস্ত জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতাগুলিকে দূর করা হোক, যাতে ম্যানেজমেন্ট, মালিক পক্ষ আর ঠিকাদারদের সমস্ত রকম ঘৃণিত, কেলেঙ্কারিতে লিপ্ত থাকা আর কমিশন খাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়।
২১) রাজ্য সরকারগুলি এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আবাসন প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মীদের পরিচয় পত্র দিয়ে থাকে। কারখানার শ্রমিকদেরও পরিচয় পত্র দেওয়ার নিয়ম করা হোক কারণ অপ্রথাগত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সাধারণত কোনও রকম পরিচয় পত্র দেওয়া হয় না।
২২) ভারতের বিশাল জগদ্দল প্রতিরক্ষা বাজেটকে কমিয়ে আনা হোক এর থেকে যে বিপুল পরিমাণে অর্থ উদ্বৃত্ত হবে তা করোণা মোকাবিলায় খরচ করা হোক।
সাথীরা, বাঁচার লড়াই লড়তেই হবে, নিজেদের অধিকার, নিজেদের ইজ্জত আর নিজেদের সন্তানেদের জন্য। এই লড়াই শ্রমিক সংগ্রাম শপথ অভিযান দিয়ে শুরু করা হচ্ছে। এতে শামিল হোন। এর কথা সাথী, চেনাজানা ও পরিবারের লোকেদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। আরও সবাইকে নিয়ে আসুন কারণ এটা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা যদি না লড়ি তো এটা নিশ্চিত যে এইসব মালিক আর ঠিকাদাররা আমাদের শেষ রক্তবিন্দুকেও কেউ ধাতব মুদ্রায় বদলে দেবে। এই অভিযানে শামিল হওয়ার জন্য নীচে দেওয়া নম্বরগুলিতে ফোন করুন।
যদি হাওয়া না বয় পাতাও নড়ে না- না লড়ে কিছুই পাওয়া যায় না!
শ্রমিকেরা করে আজ অঙ্গীকার- লড়ে কেড়ে নেওয়া হবে সব অধিকার!
ভারতের বিপ্লবী শ্রমিক পার্টি (RWPI)
সহযোগী ইউনিয়ন ও সংগঠন সমূহ- দিল্লি মজদুর ইউনিয়ন, দিল্লি স্টেট অঙ্গনবাড়ি ওয়ার্কার এন্ড হেলপার্স ইউনিয়ন, দিল্লি ঘরেলু কামগার ইউনিয়ন, দিল্লি ইস্পাত উদ্যোগ মজদুর ইউনিয়ন, অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিজ কন্টাক্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, দিল্লি মেট্রো রেল কন্ট্রাক্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, করাওল নগর মজদুর ইউনিয়ন, ক্রান্তিকারী মগনরেগা মজদুর ইউনিয়ন (হরিয়ানা) নির্মাণ মজদুর ইউনিয়ন (হারিয়ানা) বাঁধ কাম কামগার সংঘর্ষ সমিতি (মহারাষ্ট্), আম্বিলওড়া পুরগ্রস্ত নাগরিক সংঘর্ষ সমিতি (পুনে,মহারাষ্ট্), ছত্রিশগড় মাইনস শ্রমিক সংঘ (দল্লি রাজহরা), ছত্রিশগড় শ্রমিক সংঘ (শহীদনগর, বীরগাঁও), বিগুল মজদুর দস্তা, নওজোয়ান ভারত সভা, স্ত্রী মজদুর সংগঠন
যোগাযোগের সূত্রগুলি: দিল্লী – 9873358124, 9871771292, 9289498250, 8860743921
হরিয়ানা- 8685030984, 8010156365, 9068886606 উত্তর প্রদেশ- 8115491369, 9971196111, 9599067749 বিহার- 7070571498, 8873079266 উত্তরাখণ্ড – 7042740669, পাঞ্জাব – 6283170388 মহারাষ্ট্র – 8956840785, 7787364729, 8888350333, 9082861727 কেরল – 8089714315, 7907765374
হিমাচল প্রদেশ – 9582712837 তেলেঙ্গানা -9989170226 ছত্তিশগড় – 9993233537, 9993233527
পশ্চিম বাঙ্গাল – 7631235116